All Stories

Tuesday, 31 May 2016

অন-লাইন থেকে আয় করার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে Google Adsense এবং Adsense এর সকল নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করে সবচাইতে সহজে আয় করার উপায়ও বটে। আপনি যদি Google Adsense এর সকল Guideline অনুসরণ করে ব্লগিং করেন তাহলে খুব সহজেই Adsense Approved করে সঠিকভাবে বিজ্ঞাপন শো করিয়ে আপনার ব্লগ থেকে অনেক ভালমানের টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হবেন।

অনেকে দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলে যদিও Google Adsense অনুমোদন করতে সক্ষম হন কিন্তু আয় বৃদ্ধি করতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়েন। যার ফলে কিছু লোক Google Adsense ব্যবহার করার বিপক্ষে সাপোর্ট দেন। আসলে এ রকম ধারনা করা মোটেও ঠিক নয়। Google Adsense আয় বৃদ্ধি না হওয়ার প্রধান কারন হচ্ছে এর সঠিক ব্যবহার করতে না পারা। আপনি যদি সঠিকভাবে ঠিক জায়গায় Google Adsense বিজ্ঞাপন বসিয়ে নিয়মানুসারে ব্যবহার করতে পারেন তাহলে খুব সহজে আপনার ব্লগ হতে ভালমানের এমাউন্ট অর্জন করতে পারবেন। নিচের সবগুরি টিপস যদি সঠিকভাবে অনুসরণ করেন তাহলে Google Adsense আয় বৃদ্ধি পাবেই।

 ০১. Google Adsense Policy অনুসরণঃ

বেশীরভাগ পাবলিশাররা এ বিষয়টি নিয়ে কখনও ভাবেন না। তারা মনেকরেন এটি ব্লগের ক্ষেত্রে তেমন কোন প্রভাব ফেলবে না। Google Adsense এ আবেদন করার আগে ও কোড বসানোর পরে তাদের পরিপূর্ণAdsense Guideline পড়ে নিয়ে সবকিছু সঠিকভাবে অনুসরণ করতেই হবে। Google Adsense এর Guideline অনুসরণ না করে কোন কিছু করলে আপনার আয় বৃদ্ধির হওয়ার পরিবর্তে যে কোন সময় আপনার Google Adsense একাউন্ট ব্যান হতে পারেন। নিচে আমরা Google Adsense এর প্রধান কয়েকটি বর্জনীয় বিষয় তুলে ধরলাম।
  • নিজের ব্লগের বিজ্ঞাপনে ক্লিক না করা।
  • Paid Traffic বা Clicking ব্যবহার না করা।
  • অন্যকে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করতে উৎসাহিত না করা।
  • IP Address পরিবর্তন করে বিজ্ঞাপনে ক্লিক না করা।
  • ব্লগে Adult Content এবং Alcohol জাতীয় কোন কিছু শেয়ার না করা।
  • কনটেন্ট নেই এমন কোন জায়গায় বিজ্ঞাপন কোড না বসানো।
  • ভাষা সাপোর্ট করে না এমন ব্লগে বিজ্ঞাপন না বসানো।

 ০২. Responsive AdSense Units ব্যবহার করাঃ

বর্তমান সময়ে Google Adsense আয় বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে Responsive AdSense Units সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনি জরিপ করলে বিষয়টি দেখতে পাবেন যে, প্রতিদিন গড়ে মোট ভিজিটরের ৫০% এরও বেশীলোক আপনার ব্লগে কম্পিউটার ব্যতীত বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস, যেমন-মোবাইল, স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট থেকে ভিজিট করছে। এ ক্ষেত্রে আপনার ব্লগটি যদি Responsive না হয় এবং Responsive AdSense Units ব্যবহার না করেন তাহলে ভিজিটরদের ৫০% এর বেশী লোক বিজ্ঞাপন দেখা থেকে বিরত থাকছে অর্থাৎ মানে দাড়াচ্ছে আপনি ঐ ৫০% ভিজিটররে কাছ থেকে কোন লাভ অর্জন করতে পারছেন না। কাজেই ব্লগের আয় বৃদ্ধি করার জন্য অবশ্যই ব্লগেকে Responsive ডিজাইন করে নেবেন।

 ০৩. সঠিক জায়গায় বিজ্ঞাপন কোড বসানঃ

Google Adsense বিজ্ঞাপনের কোডগুলি এমন জায়গায় বসাবেন যাতে করে ভিজিটররা খুবই সহজে দেখতে পায়। এটি আপনার ব্লগের বিজ্ঞাপনে ক্লিক হওয়ার অধিক সম্ভাবনা তৈরি করবে। Google Adsense সবসময় কনটেন্ট Related বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে, কাজেই যখন পাঠক সহজে বিজ্ঞাপন দেখতে পাবে তখন ঐ জিনিসটা তার প্রয়োজন পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে সে তার প্রয়োজনে অবশ্যই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবে। তবে ব্লগের কনটেন্ট Area এর ভীতরে অধিক পরিমানে বিজ্ঞাপন বসানো থেকে বিরত থাকবেন।

 ০৪. নিয়মিত কনটেন্ট পাবলিশ করাঃ

কনটেন্ট হচ্ছে একটি ব্লগের ট্রাফিক এবং আয় বৃদ্ধি করার প্রধান ও একমাত্র মাধ্যম। আপনার ব্লগে যদি প্রচুর পরিমানে নিত্য নতুন ইউনিক ভিজিটর পেতে চান তাহলে অবশ্যই নিয়মিত নতুন নতুন আর্টিকেল পোষ্ট করুন। আপনি যখন SEO অনুসরণ করে ব্লগে ভালমানের কনটেন্ট শেয়ার করবেন তখন ভিজিটর ও আয় দুটিই বাড়তে থাকবে। তবে একটা জিনিস মনে রাখবেন বেশী কনটেন্ট শেয়ার করতে গিয়ে কখন কারও কপি করা কনটেন্ট শেয়ার করবেন না। এতেকরে আয় বৃদ্ধি হওয়ার পরিবর্তে Adsense একাউন্ট হারাতে পারেন।

 ০৫. ব্লগের Load Time বৃদ্ধি করাঃ

এটা নিশ্চিত যে, একটি দ্রুত গতীর ব্লগ ভিজিটর এবং বিজ্ঞাপন ক্লিক দুটিই বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে। আপনার ব্লগটি যদি খুব ধীর গতির হয় তাহলে কোনভাবেই ভিজিটর এবং Page View পাবেন না। কারণ ব্লগ যদি Load নিতে বেশী সময় নেয় তাহলে ভিজিটররা বিরক্ত বোধ করবে এবং আপনার ব্লগ থেকে বেরিয়ে যাবে। অধীকন্তু বাংলাদেশের ইন্টারনেট স্পীডের যা অবস্থা তাতে করে বুঝতেই পারছেন যে, ব্লগ স্লো গতির হলে কি হবে। 

 ০৬. অন্য বিজ্ঞাপন Remove করাঃ

Google Adsense বিজ্ঞাপন হতে আয় বৃদ্ধি করতে চাইলে অবশ্যই Adsense থেকে কম গুরুত্ব বহন করে এমন সকল বিজ্ঞাপন Remove করুন। তাহলে আপনার ব্লগের Load Time অনেকাংশেই বৃদ্ধি পাবে। অধিকন্তু Google Adsense তাদের বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি অন্য ধরনের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে পছন্দ করে না।Google Adsense এর জন্য আবেদন করার পূর্বে আপনি যদি অন্য কোন ধরনের বিজ্ঞাপন ব্যবহার করেন তাহলে অবশ্যই সেটি Remove করবেন। তা না হলে কোনভাবে Adsense টিম আপনার আবেদন অনুমোদন করবে না।

 ০৭. Adsense Referrers ব্যবহার করাঃ

আপনার Google Adsense একাউন্টটিকে Google Analytics Account এর সাথে যুক্ত করে রাখলে খুব সহজে প্রতিদিনকার আয়ের পরিমান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। তাছাড়া কোন কোন সাইটের মাধ্যমে, কিভাবে, কি পরিমানে আয় হচ্ছে তাও জানতে পারবেন। যেমন-আপনি ফেইসবুকে বা এ ধরনের আরও বিভিন্ন সাইটে ব্লগের লিংক প্রমোট করার মাধ্যমে কি পরিমান আয় করেন তার বিস্তারিতও শো করবে। এতেকরে আপনি সহজে বুঝতে পারবেন যে, আপনার ব্লগের আয় বাড়ানোর জন্য কি করা উচিত।

 ০৮. Google Products Monitization ব্যবহারঃ

Google Adsense থেকে বাড়তী কিছু আয় করার জন্য Google Products Monitization অপশনগুলি ব্যবহার অর্থাৎ গুগলের অন্যান্য বিভিন্ন প্রোডাক্টসগুলিতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করাতে পারেন। নিম্নে আমি এ রকম গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রোডাক্টস তুলে ধরছি -
  • Youtube Monitization: আপনার Youtbe Channel এ যদি ভালমানের ভিডিও থাকে তাহলে Youtube Partner হওয়ার মাধ্যমে ভিডিও গুলিতে Adsense ব্যবহার করে সহজে আয়ের উৎস বৃদ্ধি করতে পারেন। উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি সময়ে অনলাইন থেকে টাকা উপার্জন করার মাধ্যম গুলির মধ্যে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো YouTube এ ভিডিও Monitized করা।
  • RSS Feed এ Adsense ব্যবহারঃ আপনি যদি FeedBurner ব্যবহার করে থাকেন কিংবা অনেক Subscriber থাকে তাহলে RSS Feed এর সাথে Adsense Account যুক্ত করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের মাধ্যমেও আয় বৃদ্ধি করতে পারবেন।
  • Google Custom Search: আমাদের ব্লগে প্রায় সবাই গুগল কাষ্টম সার্চ বক্স ব্যবহার করে থাকি। আপনি হয়ত জানেন না যে, এই Google Custom Search Box এর সাথেও Adsense Account যুক্ত করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করানো যায়। কেউ যখন আপনার ব্লগের Google Custom Search ব্যবহার করে কিছু খোঁজবে তখন সার্চ রেজাল্টের উপরে ও ডানে কিছু বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করবে। এ বিজ্ঞাপন আয় বৃদ্ধিতেও ভূমিকা পালন করবে।

 ০৯. Standard ad Sizes ব্যবহারঃ

বিজ্ঞাপনের সাইজবেধে আলাদা আলাদা Click Rate ও Demand রয়েছে। উপযুক্ত সাইজের বিজ্ঞাপন ব্যবহার করলে আয়ের পরিমান বৃদ্ধি পাবে। যেমন ধরুন-790×90, 728×90, 336×280, 300×250, 300×600 ও 468×60 সাইজের বিজ্ঞাপনগুলির মূল্য অন্যান্য গুলির চাইতে অনেক বেশী। পাশাপশি খেয়াল করবেন বিজ্ঞাপন যাতে Image ও Text দুই ধরনেরই হয়।

 ১০. High Paying Ads ‍ও Keywords:

আমি আগেও বলেছি Adsense সবসময় পোষ্টের সাথে Related বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে। যেমন-আপনি যদি Cricket খেলা সম্পর্কিত কোন পোষ্ট লিখেন, তাহলে ঐ পোষ্টে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে Cricket খেলার বিজ্ঞাপন শো করবে। তেমনি আমেরিকার কোন বিষয় নিয়ে পোষ্ট করলে পোষ্টটিতে ঐ দেশের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করবে। এ ক্ষেত্রে আপনি Keyword Tool ব্যবহার করে High Label এর Keywords ব্যবহার করে ভালমানের পোষ্ট শেয়ার করতে পারেন। তাহলে Adsense আপনার ব্লগে ভালমানের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করবে। এতে আপনার ব্লগের আয় দ্বিগুনের চাইতেও বেশী হবে। তাছাড়া Adsense বিজ্ঞাপনের Rate উন্নত দেশগুলিতে বেশী হয়ে থাকে। কাজেই আপনি যদি USA, UK, Indonesia, Australia এর ভিজিটরদের টার্গেট করতে পারেন তাহলে অল্প ভিজিটর দিয়েও সহজে ভালমানের টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হবেন।

সর্বশেষঃ Google Adsense থেকে আয় বৃদ্ধি করার জন্য আমরা পোষ্টটিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিপসগুলি তুলে ধরেছি। আমি যে কোন ব্লগারকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি কেউ যদি উপরের এই ১০ টি টিপস পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করতে পারেন তাহলে তার ব্লগে Google Adsense ব্যবহার করে নিঃসন্দেহে ভালমানের টাকা (Smart Amount) উপার্জন করতে পারবেন।

Google AdSense আয় বৃদ্ধি করার ১০ টি গুরুত্বপূর্ণ Tips

Sopnil   at  05:14:00  No comments

অন-লাইন থেকে আয় করার জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে Google Adsense এবং Adsense এর সকল নিয়ম সঠিকভাবে অনুসরণ করে সবচাইতে সহজে আয় করার উপায়ও বটে। আপনি যদি Google Adsense এর সকল Guideline অনুসরণ করে ব্লগিং করেন তাহলে খুব সহজেই Adsense Approved করে সঠিকভাবে বিজ্ঞাপন শো করিয়ে আপনার ব্লগ থেকে অনেক ভালমানের টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হবেন।

অনেকে দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফলে যদিও Google Adsense অনুমোদন করতে সক্ষম হন কিন্তু আয় বৃদ্ধি করতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়েন। যার ফলে কিছু লোক Google Adsense ব্যবহার করার বিপক্ষে সাপোর্ট দেন। আসলে এ রকম ধারনা করা মোটেও ঠিক নয়। Google Adsense আয় বৃদ্ধি না হওয়ার প্রধান কারন হচ্ছে এর সঠিক ব্যবহার করতে না পারা। আপনি যদি সঠিকভাবে ঠিক জায়গায় Google Adsense বিজ্ঞাপন বসিয়ে নিয়মানুসারে ব্যবহার করতে পারেন তাহলে খুব সহজে আপনার ব্লগ হতে ভালমানের এমাউন্ট অর্জন করতে পারবেন। নিচের সবগুরি টিপস যদি সঠিকভাবে অনুসরণ করেন তাহলে Google Adsense আয় বৃদ্ধি পাবেই।

 ০১. Google Adsense Policy অনুসরণঃ

বেশীরভাগ পাবলিশাররা এ বিষয়টি নিয়ে কখনও ভাবেন না। তারা মনেকরেন এটি ব্লগের ক্ষেত্রে তেমন কোন প্রভাব ফেলবে না। Google Adsense এ আবেদন করার আগে ও কোড বসানোর পরে তাদের পরিপূর্ণAdsense Guideline পড়ে নিয়ে সবকিছু সঠিকভাবে অনুসরণ করতেই হবে। Google Adsense এর Guideline অনুসরণ না করে কোন কিছু করলে আপনার আয় বৃদ্ধির হওয়ার পরিবর্তে যে কোন সময় আপনার Google Adsense একাউন্ট ব্যান হতে পারেন। নিচে আমরা Google Adsense এর প্রধান কয়েকটি বর্জনীয় বিষয় তুলে ধরলাম।
  • নিজের ব্লগের বিজ্ঞাপনে ক্লিক না করা।
  • Paid Traffic বা Clicking ব্যবহার না করা।
  • অন্যকে বিজ্ঞাপনে ক্লিক করতে উৎসাহিত না করা।
  • IP Address পরিবর্তন করে বিজ্ঞাপনে ক্লিক না করা।
  • ব্লগে Adult Content এবং Alcohol জাতীয় কোন কিছু শেয়ার না করা।
  • কনটেন্ট নেই এমন কোন জায়গায় বিজ্ঞাপন কোড না বসানো।
  • ভাষা সাপোর্ট করে না এমন ব্লগে বিজ্ঞাপন না বসানো।

 ০২. Responsive AdSense Units ব্যবহার করাঃ

বর্তমান সময়ে Google Adsense আয় বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে Responsive AdSense Units সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আপনি জরিপ করলে বিষয়টি দেখতে পাবেন যে, প্রতিদিন গড়ে মোট ভিজিটরের ৫০% এরও বেশীলোক আপনার ব্লগে কম্পিউটার ব্যতীত বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস, যেমন-মোবাইল, স্মার্টফোন ও ট্যাবলেট থেকে ভিজিট করছে। এ ক্ষেত্রে আপনার ব্লগটি যদি Responsive না হয় এবং Responsive AdSense Units ব্যবহার না করেন তাহলে ভিজিটরদের ৫০% এর বেশী লোক বিজ্ঞাপন দেখা থেকে বিরত থাকছে অর্থাৎ মানে দাড়াচ্ছে আপনি ঐ ৫০% ভিজিটররে কাছ থেকে কোন লাভ অর্জন করতে পারছেন না। কাজেই ব্লগের আয় বৃদ্ধি করার জন্য অবশ্যই ব্লগেকে Responsive ডিজাইন করে নেবেন।

 ০৩. সঠিক জায়গায় বিজ্ঞাপন কোড বসানঃ

Google Adsense বিজ্ঞাপনের কোডগুলি এমন জায়গায় বসাবেন যাতে করে ভিজিটররা খুবই সহজে দেখতে পায়। এটি আপনার ব্লগের বিজ্ঞাপনে ক্লিক হওয়ার অধিক সম্ভাবনা তৈরি করবে। Google Adsense সবসময় কনটেন্ট Related বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে, কাজেই যখন পাঠক সহজে বিজ্ঞাপন দেখতে পাবে তখন ঐ জিনিসটা তার প্রয়োজন পড়তে পারে। এ ক্ষেত্রে সে তার প্রয়োজনে অবশ্যই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করবে। তবে ব্লগের কনটেন্ট Area এর ভীতরে অধিক পরিমানে বিজ্ঞাপন বসানো থেকে বিরত থাকবেন।

 ০৪. নিয়মিত কনটেন্ট পাবলিশ করাঃ

কনটেন্ট হচ্ছে একটি ব্লগের ট্রাফিক এবং আয় বৃদ্ধি করার প্রধান ও একমাত্র মাধ্যম। আপনার ব্লগে যদি প্রচুর পরিমানে নিত্য নতুন ইউনিক ভিজিটর পেতে চান তাহলে অবশ্যই নিয়মিত নতুন নতুন আর্টিকেল পোষ্ট করুন। আপনি যখন SEO অনুসরণ করে ব্লগে ভালমানের কনটেন্ট শেয়ার করবেন তখন ভিজিটর ও আয় দুটিই বাড়তে থাকবে। তবে একটা জিনিস মনে রাখবেন বেশী কনটেন্ট শেয়ার করতে গিয়ে কখন কারও কপি করা কনটেন্ট শেয়ার করবেন না। এতেকরে আয় বৃদ্ধি হওয়ার পরিবর্তে Adsense একাউন্ট হারাতে পারেন।

 ০৫. ব্লগের Load Time বৃদ্ধি করাঃ

এটা নিশ্চিত যে, একটি দ্রুত গতীর ব্লগ ভিজিটর এবং বিজ্ঞাপন ক্লিক দুটিই বৃদ্ধি করতে সক্ষম হবে। আপনার ব্লগটি যদি খুব ধীর গতির হয় তাহলে কোনভাবেই ভিজিটর এবং Page View পাবেন না। কারণ ব্লগ যদি Load নিতে বেশী সময় নেয় তাহলে ভিজিটররা বিরক্ত বোধ করবে এবং আপনার ব্লগ থেকে বেরিয়ে যাবে। অধীকন্তু বাংলাদেশের ইন্টারনেট স্পীডের যা অবস্থা তাতে করে বুঝতেই পারছেন যে, ব্লগ স্লো গতির হলে কি হবে। 

 ০৬. অন্য বিজ্ঞাপন Remove করাঃ

Google Adsense বিজ্ঞাপন হতে আয় বৃদ্ধি করতে চাইলে অবশ্যই Adsense থেকে কম গুরুত্ব বহন করে এমন সকল বিজ্ঞাপন Remove করুন। তাহলে আপনার ব্লগের Load Time অনেকাংশেই বৃদ্ধি পাবে। অধিকন্তু Google Adsense তাদের বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি অন্য ধরনের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে পছন্দ করে না।Google Adsense এর জন্য আবেদন করার পূর্বে আপনি যদি অন্য কোন ধরনের বিজ্ঞাপন ব্যবহার করেন তাহলে অবশ্যই সেটি Remove করবেন। তা না হলে কোনভাবে Adsense টিম আপনার আবেদন অনুমোদন করবে না।

 ০৭. Adsense Referrers ব্যবহার করাঃ

আপনার Google Adsense একাউন্টটিকে Google Analytics Account এর সাথে যুক্ত করে রাখলে খুব সহজে প্রতিদিনকার আয়ের পরিমান সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। তাছাড়া কোন কোন সাইটের মাধ্যমে, কিভাবে, কি পরিমানে আয় হচ্ছে তাও জানতে পারবেন। যেমন-আপনি ফেইসবুকে বা এ ধরনের আরও বিভিন্ন সাইটে ব্লগের লিংক প্রমোট করার মাধ্যমে কি পরিমান আয় করেন তার বিস্তারিতও শো করবে। এতেকরে আপনি সহজে বুঝতে পারবেন যে, আপনার ব্লগের আয় বাড়ানোর জন্য কি করা উচিত।

 ০৮. Google Products Monitization ব্যবহারঃ

Google Adsense থেকে বাড়তী কিছু আয় করার জন্য Google Products Monitization অপশনগুলি ব্যবহার অর্থাৎ গুগলের অন্যান্য বিভিন্ন প্রোডাক্টসগুলিতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করাতে পারেন। নিম্নে আমি এ রকম গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি প্রোডাক্টস তুলে ধরছি -
  • Youtube Monitization: আপনার Youtbe Channel এ যদি ভালমানের ভিডিও থাকে তাহলে Youtube Partner হওয়ার মাধ্যমে ভিডিও গুলিতে Adsense ব্যবহার করে সহজে আয়ের উৎস বৃদ্ধি করতে পারেন। উল্লেখ্য যে, সম্প্রতি সময়ে অনলাইন থেকে টাকা উপার্জন করার মাধ্যম গুলির মধ্যে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো YouTube এ ভিডিও Monitized করা।
  • RSS Feed এ Adsense ব্যবহারঃ আপনি যদি FeedBurner ব্যবহার করে থাকেন কিংবা অনেক Subscriber থাকে তাহলে RSS Feed এর সাথে Adsense Account যুক্ত করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শনের মাধ্যমেও আয় বৃদ্ধি করতে পারবেন।
  • Google Custom Search: আমাদের ব্লগে প্রায় সবাই গুগল কাষ্টম সার্চ বক্স ব্যবহার করে থাকি। আপনি হয়ত জানেন না যে, এই Google Custom Search Box এর সাথেও Adsense Account যুক্ত করে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করানো যায়। কেউ যখন আপনার ব্লগের Google Custom Search ব্যবহার করে কিছু খোঁজবে তখন সার্চ রেজাল্টের উপরে ও ডানে কিছু বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করবে। এ বিজ্ঞাপন আয় বৃদ্ধিতেও ভূমিকা পালন করবে।

 ০৯. Standard ad Sizes ব্যবহারঃ

বিজ্ঞাপনের সাইজবেধে আলাদা আলাদা Click Rate ও Demand রয়েছে। উপযুক্ত সাইজের বিজ্ঞাপন ব্যবহার করলে আয়ের পরিমান বৃদ্ধি পাবে। যেমন ধরুন-790×90, 728×90, 336×280, 300×250, 300×600 ও 468×60 সাইজের বিজ্ঞাপনগুলির মূল্য অন্যান্য গুলির চাইতে অনেক বেশী। পাশাপশি খেয়াল করবেন বিজ্ঞাপন যাতে Image ও Text দুই ধরনেরই হয়।

 ১০. High Paying Ads ‍ও Keywords:

আমি আগেও বলেছি Adsense সবসময় পোষ্টের সাথে Related বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করে। যেমন-আপনি যদি Cricket খেলা সম্পর্কিত কোন পোষ্ট লিখেন, তাহলে ঐ পোষ্টে বেশীরভাগ ক্ষেত্রে Cricket খেলার বিজ্ঞাপন শো করবে। তেমনি আমেরিকার কোন বিষয় নিয়ে পোষ্ট করলে পোষ্টটিতে ঐ দেশের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করবে। এ ক্ষেত্রে আপনি Keyword Tool ব্যবহার করে High Label এর Keywords ব্যবহার করে ভালমানের পোষ্ট শেয়ার করতে পারেন। তাহলে Adsense আপনার ব্লগে ভালমানের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করবে। এতে আপনার ব্লগের আয় দ্বিগুনের চাইতেও বেশী হবে। তাছাড়া Adsense বিজ্ঞাপনের Rate উন্নত দেশগুলিতে বেশী হয়ে থাকে। কাজেই আপনি যদি USA, UK, Indonesia, Australia এর ভিজিটরদের টার্গেট করতে পারেন তাহলে অল্প ভিজিটর দিয়েও সহজে ভালমানের টাকা উপার্জন করতে সক্ষম হবেন।

সর্বশেষঃ Google Adsense থেকে আয় বৃদ্ধি করার জন্য আমরা পোষ্টটিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টিপসগুলি তুলে ধরেছি। আমি যে কোন ব্লগারকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি কেউ যদি উপরের এই ১০ টি টিপস পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করতে পারেন তাহলে তার ব্লগে Google Adsense ব্যবহার করে নিঃসন্দেহে ভালমানের টাকা (Smart Amount) উপার্জন করতে পারবেন।
Continue Reading→

0 comments:

Saturday, 21 May 2016

প্রত্যেক ব্লগের এ্যাডমিন তার নিজের প্রিয় ব্লগটিকে সবার কাছে একটি জনপ্রিয় ব্লগ হিসেবে উপস্থাপন করতে চান। সবাই আশা করেন তার ব্লগটি সকলের কাছে জনপ্রিয় ব্লগ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। তবে একজন ওয়েব ডেভেলপারের/ব্লগারের পক্ষে এই কাজটি করা খুব কঠিন একটা বিষয়। একজন ব্লগার সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এবং আরো অন্যান্য কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে যদিও একটি ব্লগে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পেতে সক্ষম হন কিন্তু খুব কম সংখ্যক লোক ব্লগের জনপ্রিয়তা তৈরিতে সফল হতে পারেন। কারন ব্লগে ট্রাফিক/ভিজিটর পেলেই একটি ব্লগ জনপ্রিয় হয়ে উঠে না। একটি ব্লগকে সবার কাছে জনপ্রিয় এবং গ্রহনযোগ্য করে তুলার জন্য ব্লগ এ্যাডমিন ও ব্লগের বিভিন্ন বিষয়ে কিছু অসাধারন গুনাবলীর প্রয়োজন হয়।

আপনি হয়ত ভাবতে পারেন কারো ব্লগে পর্যাপ্ত ট্রাফিক থাকলেই ব্লগটি সবচাইতে জনপ্রিয় ব্লগ হয়ে উঠবে। আসলে Traffic এবং জনপ্রিয়তা শব্দ দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। সাধারনত আপনি লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন যে, অন-লাইনে অনেক ব্লগ রয়েছে যারা ইউটিব থেকে কিছু জনপ্রিয় ভিডিও বাছাই করে ভিডিওটির একটি আকর্ষণীয় এবং কৌতুহলী টাইটেল প্রদানের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের Social Media-তে লিংক শেয়ার করার মাধ্যমে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর পেয়ে যান। এ ধরনের ব্লগের পর্যাপ্ত ট্রাফিক থাকার কারনে র‌্যাংকিংও ভাল অবস্থানে থাকে। তবে খুব কম সংখ্যক ভিজিটর পরবর্তীতে পুনরায় এই টাইপের ব্লগে ভিজিট করেন। ঠিক একইভাবে আরও অন্যান্য টপিকের ব্লগ রয়েছে যারা বিভিন্ন কৌশল খাঠিয়ে ব্লগে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পেয়ে যান, তবে ভিজিটরদের ব্লগে ধরে রাখতে বা ব্লগের জনপ্রিয়তা তৈরি করতে সক্ষম হন না।

একটি ব্লগে ট্রাফিক থাকার পাশাপাশি যখন ভিজিটরদের কাছে ব্লগের জনপ্রিয়তা এবং গ্রহনযোগ্যতা বৃদ্ধি পবে, তখনই আপনার ব্লগিং করার উদ্দেশ্য পরিপূর্ণ হয়েছে বলে ধরে নিতে পারেন। আপনাকে সব সময় একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, শুধুমাত্র ট্রাফিক বৃদ্ধি করার মাধ্যমে অন-লাইন হতে আয় করাটাই ব্লগিংয়ের মূখ্য উদ্দেশ্য নয়। আপনার ব্লগের কনটেন্টের মাধ্যমে কিছু নিত্য নতুন বিষয় শেয়ার করে সবাইকে শেখানোটা হবে আপনার মূল উদ্দেশ্য। পক্ষান্তরে যখন আপনার ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে, তখন ব্লগের ট্রাফিক এবং ব্লগ থেকে আয় করার বিষয়টা নিয়ে কোন চিন্তা করতে হবে না। কারণ যে কোন জিনিসের সুনাম বা জনপ্রিয়তা ঐ বিষয়ের মাধ্যমে একজন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌছে দেবে। আমার ব্লগিং ক্যারিয়ারের দীর্ঘ অভীজ্ঞতা থেকে একটি ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে সহায়ক কয়েকটি বিষয় আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

 Attractive ব্লগ ডিজাইনঃ

সুন্দর্যের প্রতি সব মানুষের আকর্ষণ রয়েছে। মানুষ জন্মগতভাবে সুন্দরের পূজারী। ঠিক একইভাবে একটি আকর্ষণীয় ডিজাইনের ব্লগ যে কোন লোককে ব্লগের প্রতি আকর্ষণ করাতে পারে। একটি আকর্ষণীয় ইউনিক ডিজাইনের ব্লগ একটি ব্লগের ব্যক্তিত্বের প্রকাশ করে। কিন্তু বেশীরভাগ ব্লগারদের ক্ষেত্রে দেখা যায় অন-লাইনে বহুল ব্যবহৃত ফ্রি টেমপ্লেটগুলি ডাউনলোড করে ব্যবহার করছেন। বিষয়টি আপনি ভালভাবে চিন্তা করলে বুঝতে পারবেন যে, অন-লাইনে ১০০ জনের ব্যবহৃত ব্লগার টেমপ্লেটটি দিয়ে কিভাবে পাঠকদের ব্লগের ডিজাইনের প্রতি আকৃষ্ট করতে সমর্থ হবেন? এ ক্ষেত্রে ১০০ জনের ব্যবহৃত টেমপ্লেট দিয়ে ব্লগের Interface এর প্রতি কোনভাবেই পাঠকদের আকর্ষণ করাতে পারবেন না। বরংচ অধিক ব্যবহৃত একই ডিজাইনের ব্লগের কারনে পাঠকের কাছে আপনার ব্লগের গ্রহযোগ্যতা কমে যাবে।

আপনি যদি ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কে দক্ষতা সম্পন্ন হন, তাহলে ব্লগিং শুরু করার পূর্বে ব্লগের ডিফল্ট টেমপ্লেটগুলির যে কোন একটিকে Customize করে সবার থেকে একটু ভিন্নরূপে তৈরি করতে পারেন। তবে আপনি যদি ওয়েব ডিজাইন করা না জানেন, তাহলে কোন ভালমানের ডেভেলপারের কাছ থেকে অর্ডার করে কিছু টাকার বিনিময়ে শুধুমাত্র আপনার জন্য একটি টেমপ্লেট ডিজাইন করিয়ে নিতে পারেন। তাহলে সবার থেকে আলাদা এ ধরনের ইউনিক ডিজাইনের ব্লগের প্রতি পাঠকরা অধিক আকৃষ্ট হবে। টেমপ্লেট ডিজাইনের ক্ষেত্রে Responsiveব্যাপারটি অবশ্যই মাথায় রাখবেন। কারন পাঠকরা শুধুমাত্র আপনার ব্লগটি কম্পিউটার থেকে ভিজিট করবে না। সম্প্রতি মোবাইল, স্মার্ট ফোন এবং ট্যাবলেটের ব্যবহার এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, পাঠকরা তাদের প্রয়োজন এখন কম্পিউটার ব্যবহার না করে এ ধরনের স্মার্ট ডিভাইসের মাধ্যমে সেরে নিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে আপনার ব্লগটিকে Responsive ডিজাইন করলে অধিক পাঠক এবং জনপ্রিয়তা দুটিই পেতে পারেন। তাছাড়া সম্প্রতি গুগলও মোবাইল ফ্রেন্ডলি ব্লগগুলিকে র‌্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।

 ভালমানের সাজানো কনটেন্টঃ

সর্বক্ষেত্রেই কনটেন্ট হচ্ছে একটি ব্লগের প্রাণ। আপনি যে বিষয় নিয়েই ব্লগিং করেন না কেন, ব্লগে অবশ্যই সবার থেকে আলাদা এবং ভালমানের কনটেন্ট থাকতে হবে। ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে আমি সবসময় সবাইকে এই বিষয়টির প্রতি অধিক গুরুত্ব দিতে বলি। কোন একটি পোষ্ট লিখার সময় আপনি ঐ লিখাটি সাবার কাছে সুন্দর, সহজ এবং বোধগম্য করে উপস্থাপন করতে পারলে, তখন আপনার লিখাটির প্রতি সবাই আকৃষ্ট হবে। এ ক্ষেত্রে আপনি যে কোন বিষয়ে যুক্তি ও উদাহরনের মাধ্যমে পাঠককে পরিষ্কার ধারনা দিতে পারেন। কারণ পাঠকরা আপানারমত সব বিষয়ে অভীজ্ঞতা সম্পন্ন হবে না। সে ক্ষেত্রে সহজভাবে কোন বিষয় উপস্থাপন করতে পারলে আপনি একজন ভালমানের লেখক হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, লিখার মধ্যে অবশ্যই ভালমানের পরিপাঠি করা সুন্দর ও স্মার্ট শব্দ থাকলে বিষয়টি আরো ভাল হয়।

ধরুন-আপনার সামনে দু’জন লোক শার্ট, প্যান্ট এবং পায়ে সু পরে ইন করা অবস্থায় দাড়িয়ে আছে। তাদের একজনের শার্ট, প্যান্ট সুন্দরভাবে ইস্ত্রি করা, পায়ের সু ঠিকমত কালি করার পাশাপাশি লোকটির চুল ও দাড়ী কাঠা অবস্থায় সুন্দরভাবে পরিপাঠি করা রয়েছে। পক্ষান্তরে অন্য লোকটির শার্ট, প্যান্ট, সু, চুল ও দাড়ি কোন কিছু সুন্দরভাবে গুছানো নেই। এ ক্ষেত্রে প্রথম লোকটি যেমনি স্মার্ট, সুন্দর এবং একজন ব্যক্তিত্বের অধিকারী লাগবে, উল্টো দিকে দ্বিতীয় লোকটির সবকিছু থাকার পরও জিনিসগুলি পরিপাঠি করা না থাকার কারনে অসুন্দর দেখাবে। ঠিক একইভাবে আপনার ব্লগের কনটেন্টগুলি যদি সুন্দরভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে পরিপাঠি করে লিখতে পারেন, তাহলে আপনার লেখার কোয়ালিটির পাশাপাশি ব্যক্তিত্বের একটি ছুয়া পাওয়া যাবে। এ বিষয়টি একজন পাঠককে আপনার ব্লগের কনটেন্টের প্রতি অধিক আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবে।

 অন্যান্য ব্লগে Gust ব্লগার হওয়াঃ

এটি গুগল ব্লগারের বড় একটা অপশন। এই অপশনের মাধ্যমে সহজে যে কোন ব্যক্তিকে ব্লগের Author হিসেবে যুক্ত করার মাধ্যমে লিখার সুযোগ প্রদান করা যায়। অন-লাইনে অনেক ব্লগ রয়েছে যারা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন বিষয়ে Gust ব্লগার নিয়ে থাকে। আপনি যে বিষয়টি নিয়ে ব্লগিং করছেন সেই বিষয়ে ভালমানের ব্লগ গুলিতে একজন Gust ব্লগার হিসেবে যোগ দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আপনি যদি ভালমানের লেখক হন, তাহলে খুব সহজে ঐ ব্লগের মাধ্যমে আপনার ব্লগটিকে পরিচয় করিয়ে ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করতে পারেন। আপনি যখন Gust ব্লগার হিসেবে ঐ ব্লগটিতে নিয়মিত লিখবেন, তখন তারা আপনার ব্লগের পোষ্টগুলি লিংক করার সুযোগ দেবে। এ ক্ষেত্রে আপনি নিঃসন্দেহে একটি ভালমানের ব্লগ থেকে Dofollow Backlinks তৈরির মাধ্যমে ঐ ব্লগ থেকে আপনার ব্লগটিতে ট্রাফিক বৃদ্ধি করে নিতে পারেন।

 কমেন্টের সঠিক প্রতি উত্তর দেয়াঃ

এ বিষয়টি আপনার ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। পাঠক যখন আপনার পোষ্ট পড়বে তখন পোষ্টের কিছু বিষয় হয়ত ঠিকমত বুঝবে না। এ ক্ষেত্রে তারা চাইবে কমেন্টের মাধ্যমে আপনার নিকট থেকে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জেনে নিতে। আপনি যদি কমেন্টের প্রতি-উত্তর প্রদানের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে কমেন্টকারীকে সহজ ও বোধগম্য করে সন্তুষজনক জবাব দিতে পারেন, তাহলে ঐ পাঠক নিঃসন্দেহে আপনার ব্লগটিকে তার প্রিয় ব্লগের তালিকা রেখে Bookmark করে নেবে। এ ছাড়াও কিছু লোক যারা আপনার ব্লগের Contact Form এর মাধ্যমে কিংবা ই-মেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সমাধান চাইবে। আপনি বিষয়টি হেলায় ফেলে না দিয়ে, আপনার ব্লগের বিষয়ের সাথে মিল রয়েছে এমন বিষয়গুলি সম্পর্কে যোগাযোগকারীকে সমাধান সম্পর্কে জানাতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ঐ লোকটি আপনার এবং আপনার ব্লগের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে ব্লগটিকে প্রিয় তালিকার মধ্যে রেখে দিতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে পাঠকরা কিছুতেই তাদের সীমা অতিক্রম করা উচিত হবে। পাঠকদের উদ্দেশ্যে এ বিষয় আমি দুটি কথা বলে নিচ্ছি।

অনেক ভিজিটর রয়েছেন যারা বিভিন্ন বিষয়ে Facebook, WhatsApp এবং মোবাইলে ফোন করে ব্লগের Author এর কাছে বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্য চান। আসলে এ বিষয়টি মোটেও সমিচীন নয়। কারণ ব্লগের Author এরও একটা Personality এবং ব্যস্ততা রয়েছে। এমন নয় সে সবসময় ব্লগ নিয়ে বসে থাকে। এ ক্ষেত্রে আপনার যদি কোন বিষয়ে সমাধান একান্ত প্রয়োজন হয়, তাহলে কমেন্ট, ই-মেইল এবং ফেইসবুক কমিউনিটিতে যোগাযোগ করে আপনার বিষয় সম্পর্কে সাহায্য চাইতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ঐ ব্লগের Author এর পাশাপাশি হয়ত অন্য লোকের কাছ থেকেও আপনার কাঙ্খিত বিষয়ে সহজে অল্প সময়ে সমাধান পেয়ে যাবেন।

 ব্লগের Communities তৈরি করাঃ

এই বিষয়টি আপনার ব্লগকে সবার কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে। আপনি যে বিষয় নিয়ে ব্লগিং করছেন, সেই বিষয়ের ভালমানের অন্যান্য ব্লগগুলির সাথে আপনার ব্লগটির Communities তৈরি করে নিতে পারেন। আপনি অন-লাইনে খোঁজলে খুব সহজে এ ধরনের অনেক ব্লগ পেয়ে যাবেন। তাছাড়া কিছু ভালমানের ব্লগ রয়েছে যেগুলি আপনি সাব্সক্রাইব করে নিয়ে তাদের সাথে নিয়মতভাবে একটি Communication তৈরি করে নিতে পারেন। আপনার ব্লগেও Subscribe অপশনটা ব্যবহার করে অন্যদের-কে আপনার ব্লগটি Subscribe করার সুযোগ করে দিতে পারেন।

 কিছু ফ্রি অপশন প্রদান করাঃ

আপনি একটা জিনিস মনে রাখবেন, পাঠকরা সবসময় ফ্রি জিনিস সহজে পেতে পছন্দ করে। তারা সব সময় চাইবে কারো ব্লগ থেকে ফ্রিতে ভালমানের কিছু ডাউনলোড করে নিতে। ধরুন আপনার ব্লগে Blogger Template, WordPress Theme এবং আপনার নিজের লিখা বিভিন্ন ই-বুক টাকার বিনিময়ে শেয়ার করেন। এ ক্ষেত্রে আপনি যদি সবগুলি টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেন, তাহলে পাঠকরা আপনার ব্লগটি ভিজিট করা থেকে বিরত থাকবে। কারণ তাদের মনে একটা ধারনা হয়ে যাবে, এই ব্লগে টাকা ছাড়া কিছুই নেয়া যায় না। সেই জন্য আপনার উচিত হবে মাঝে মধ্যে কম গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলি বিনা মূল্যে সবাইকে ডাউনলোড করার সুযোগ তৈরি করে দেয়া। এ বিষয়টি আপনার ব্লগকে পাঠকের কাছে জনপ্রিয় এবং গরুত্বপূর্ণ করে তুলবে।

 Social Media Promote করাঃ

বর্তমান সময়ে ওয়েব ডেভেলপাররা ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি এবং সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের ক্ষেত্রেও সোসিয়াল মিডিয়াকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। কারন বিভিন্ন সোসিয়াল মিডিয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা এত বেশী যে, এটি কোন ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের পন্যের প্রচার-প্রসার এবং জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে অনেক ভূমিকা পালন করে। বিশেষকরে Facebook এবং Twitter এ আপনার ব্লগের জন্য একটি করে Fan Page তৈরি করে Fan বৃদ্ধি করে নিয়মিতভাবে ব্লগের বিভিন্ন পোষ্ট শেয়ার করার মাধ্যমে ব্লগের জনপ্রিয়তা এবং ট্রাফিক দুটিই বৃদ্ধি করতে পারবেন। তাছাড়াও Facebook এ একটি Group তৈরি করে সেখানে মেম্বার বৃদ্ধির মাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা করে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান প্রদানের মাধ্যমে ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করতে পারেন।

সর্বশেষঃ উপরের সবগুলি বিষয় আপনার ব্লগের ট্রাফিক বৃদ্ধি, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এবং জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে বিশেষভাবে অবদান রাখবে। আপনি যদি ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করে ব্লগের গ্রহনযোগ্যতা বাড়াতে পারেন, তাহলে আপনার ব্লগটি এক সময় সবার কাছে ব্রান্ড হয়ে যাবে। তখন ব্লগের ট্রাফিক এবং ব্লগ থেকে আয় করা কোনটি নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না। কারণ যখন আপনার ব্লগটি সবার কাছে পরিচিত হয়ে যাবে, তখন পাঠক ব্লগটিতে সরাসরি ব্লগের লিংক ব্যবহার করে নিয়মিতভাবে ভিজিট করতে থাকবে। এ জন্য সবাইকে ব্লগের SEO করার পাশাপাশি জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কৌশলগুলি যথাযথভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।

কিভাবে একটি ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করবেন?

Sopnil   at  21:19:00  No comments

প্রত্যেক ব্লগের এ্যাডমিন তার নিজের প্রিয় ব্লগটিকে সবার কাছে একটি জনপ্রিয় ব্লগ হিসেবে উপস্থাপন করতে চান। সবাই আশা করেন তার ব্লগটি সকলের কাছে জনপ্রিয় ব্লগ হিসেবে স্বীকৃতি পাবে। তবে একজন ওয়েব ডেভেলপারের/ব্লগারের পক্ষে এই কাজটি করা খুব কঠিন একটা বিষয়। একজন ব্লগার সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এবং আরো অন্যান্য কৌশল অবলম্বনের মাধ্যমে যদিও একটি ব্লগে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পেতে সক্ষম হন কিন্তু খুব কম সংখ্যক লোক ব্লগের জনপ্রিয়তা তৈরিতে সফল হতে পারেন। কারন ব্লগে ট্রাফিক/ভিজিটর পেলেই একটি ব্লগ জনপ্রিয় হয়ে উঠে না। একটি ব্লগকে সবার কাছে জনপ্রিয় এবং গ্রহনযোগ্য করে তুলার জন্য ব্লগ এ্যাডমিন ও ব্লগের বিভিন্ন বিষয়ে কিছু অসাধারন গুনাবলীর প্রয়োজন হয়।

আপনি হয়ত ভাবতে পারেন কারো ব্লগে পর্যাপ্ত ট্রাফিক থাকলেই ব্লগটি সবচাইতে জনপ্রিয় ব্লগ হয়ে উঠবে। আসলে Traffic এবং জনপ্রিয়তা শব্দ দুটির মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে। সাধারনত আপনি লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন যে, অন-লাইনে অনেক ব্লগ রয়েছে যারা ইউটিব থেকে কিছু জনপ্রিয় ভিডিও বাছাই করে ভিডিওটির একটি আকর্ষণীয় এবং কৌতুহলী টাইটেল প্রদানের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের Social Media-তে লিংক শেয়ার করার মাধ্যমে প্রচুর পরিমানে ভিজিটর পেয়ে যান। এ ধরনের ব্লগের পর্যাপ্ত ট্রাফিক থাকার কারনে র‌্যাংকিংও ভাল অবস্থানে থাকে। তবে খুব কম সংখ্যক ভিজিটর পরবর্তীতে পুনরায় এই টাইপের ব্লগে ভিজিট করেন। ঠিক একইভাবে আরও অন্যান্য টপিকের ব্লগ রয়েছে যারা বিভিন্ন কৌশল খাঠিয়ে ব্লগে পর্যাপ্ত ট্রাফিক পেয়ে যান, তবে ভিজিটরদের ব্লগে ধরে রাখতে বা ব্লগের জনপ্রিয়তা তৈরি করতে সক্ষম হন না।

একটি ব্লগে ট্রাফিক থাকার পাশাপাশি যখন ভিজিটরদের কাছে ব্লগের জনপ্রিয়তা এবং গ্রহনযোগ্যতা বৃদ্ধি পবে, তখনই আপনার ব্লগিং করার উদ্দেশ্য পরিপূর্ণ হয়েছে বলে ধরে নিতে পারেন। আপনাকে সব সময় একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে, শুধুমাত্র ট্রাফিক বৃদ্ধি করার মাধ্যমে অন-লাইন হতে আয় করাটাই ব্লগিংয়ের মূখ্য উদ্দেশ্য নয়। আপনার ব্লগের কনটেন্টের মাধ্যমে কিছু নিত্য নতুন বিষয় শেয়ার করে সবাইকে শেখানোটা হবে আপনার মূল উদ্দেশ্য। পক্ষান্তরে যখন আপনার ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাবে, তখন ব্লগের ট্রাফিক এবং ব্লগ থেকে আয় করার বিষয়টা নিয়ে কোন চিন্তা করতে হবে না। কারণ যে কোন জিনিসের সুনাম বা জনপ্রিয়তা ঐ বিষয়ের মাধ্যমে একজন্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌছে দেবে। আমার ব্লগিং ক্যারিয়ারের দীর্ঘ অভীজ্ঞতা থেকে একটি ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে সহায়ক কয়েকটি বিষয় আপনাদের সাথে শেয়ার করব।

 Attractive ব্লগ ডিজাইনঃ

সুন্দর্যের প্রতি সব মানুষের আকর্ষণ রয়েছে। মানুষ জন্মগতভাবে সুন্দরের পূজারী। ঠিক একইভাবে একটি আকর্ষণীয় ডিজাইনের ব্লগ যে কোন লোককে ব্লগের প্রতি আকর্ষণ করাতে পারে। একটি আকর্ষণীয় ইউনিক ডিজাইনের ব্লগ একটি ব্লগের ব্যক্তিত্বের প্রকাশ করে। কিন্তু বেশীরভাগ ব্লগারদের ক্ষেত্রে দেখা যায় অন-লাইনে বহুল ব্যবহৃত ফ্রি টেমপ্লেটগুলি ডাউনলোড করে ব্যবহার করছেন। বিষয়টি আপনি ভালভাবে চিন্তা করলে বুঝতে পারবেন যে, অন-লাইনে ১০০ জনের ব্যবহৃত ব্লগার টেমপ্লেটটি দিয়ে কিভাবে পাঠকদের ব্লগের ডিজাইনের প্রতি আকৃষ্ট করতে সমর্থ হবেন? এ ক্ষেত্রে ১০০ জনের ব্যবহৃত টেমপ্লেট দিয়ে ব্লগের Interface এর প্রতি কোনভাবেই পাঠকদের আকর্ষণ করাতে পারবেন না। বরংচ অধিক ব্যবহৃত একই ডিজাইনের ব্লগের কারনে পাঠকের কাছে আপনার ব্লগের গ্রহযোগ্যতা কমে যাবে।

আপনি যদি ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কে দক্ষতা সম্পন্ন হন, তাহলে ব্লগিং শুরু করার পূর্বে ব্লগের ডিফল্ট টেমপ্লেটগুলির যে কোন একটিকে Customize করে সবার থেকে একটু ভিন্নরূপে তৈরি করতে পারেন। তবে আপনি যদি ওয়েব ডিজাইন করা না জানেন, তাহলে কোন ভালমানের ডেভেলপারের কাছ থেকে অর্ডার করে কিছু টাকার বিনিময়ে শুধুমাত্র আপনার জন্য একটি টেমপ্লেট ডিজাইন করিয়ে নিতে পারেন। তাহলে সবার থেকে আলাদা এ ধরনের ইউনিক ডিজাইনের ব্লগের প্রতি পাঠকরা অধিক আকৃষ্ট হবে। টেমপ্লেট ডিজাইনের ক্ষেত্রে Responsiveব্যাপারটি অবশ্যই মাথায় রাখবেন। কারন পাঠকরা শুধুমাত্র আপনার ব্লগটি কম্পিউটার থেকে ভিজিট করবে না। সম্প্রতি মোবাইল, স্মার্ট ফোন এবং ট্যাবলেটের ব্যবহার এতই বৃদ্ধি পেয়েছে যে, পাঠকরা তাদের প্রয়োজন এখন কম্পিউটার ব্যবহার না করে এ ধরনের স্মার্ট ডিভাইসের মাধ্যমে সেরে নিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে আপনার ব্লগটিকে Responsive ডিজাইন করলে অধিক পাঠক এবং জনপ্রিয়তা দুটিই পেতে পারেন। তাছাড়া সম্প্রতি গুগলও মোবাইল ফ্রেন্ডলি ব্লগগুলিকে র‌্যাংকিংয়ের ক্ষেত্রে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে।

 ভালমানের সাজানো কনটেন্টঃ

সর্বক্ষেত্রেই কনটেন্ট হচ্ছে একটি ব্লগের প্রাণ। আপনি যে বিষয় নিয়েই ব্লগিং করেন না কেন, ব্লগে অবশ্যই সবার থেকে আলাদা এবং ভালমানের কনটেন্ট থাকতে হবে। ব্লগিংয়ের ক্ষেত্রে আমি সবসময় সবাইকে এই বিষয়টির প্রতি অধিক গুরুত্ব দিতে বলি। কোন একটি পোষ্ট লিখার সময় আপনি ঐ লিখাটি সাবার কাছে সুন্দর, সহজ এবং বোধগম্য করে উপস্থাপন করতে পারলে, তখন আপনার লিখাটির প্রতি সবাই আকৃষ্ট হবে। এ ক্ষেত্রে আপনি যে কোন বিষয়ে যুক্তি ও উদাহরনের মাধ্যমে পাঠককে পরিষ্কার ধারনা দিতে পারেন। কারণ পাঠকরা আপানারমত সব বিষয়ে অভীজ্ঞতা সম্পন্ন হবে না। সে ক্ষেত্রে সহজভাবে কোন বিষয় উপস্থাপন করতে পারলে আপনি একজন ভালমানের লেখক হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, লিখার মধ্যে অবশ্যই ভালমানের পরিপাঠি করা সুন্দর ও স্মার্ট শব্দ থাকলে বিষয়টি আরো ভাল হয়।

ধরুন-আপনার সামনে দু’জন লোক শার্ট, প্যান্ট এবং পায়ে সু পরে ইন করা অবস্থায় দাড়িয়ে আছে। তাদের একজনের শার্ট, প্যান্ট সুন্দরভাবে ইস্ত্রি করা, পায়ের সু ঠিকমত কালি করার পাশাপাশি লোকটির চুল ও দাড়ী কাঠা অবস্থায় সুন্দরভাবে পরিপাঠি করা রয়েছে। পক্ষান্তরে অন্য লোকটির শার্ট, প্যান্ট, সু, চুল ও দাড়ি কোন কিছু সুন্দরভাবে গুছানো নেই। এ ক্ষেত্রে প্রথম লোকটি যেমনি স্মার্ট, সুন্দর এবং একজন ব্যক্তিত্বের অধিকারী লাগবে, উল্টো দিকে দ্বিতীয় লোকটির সবকিছু থাকার পরও জিনিসগুলি পরিপাঠি করা না থাকার কারনে অসুন্দর দেখাবে। ঠিক একইভাবে আপনার ব্লগের কনটেন্টগুলি যদি সুন্দরভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে পরিপাঠি করে লিখতে পারেন, তাহলে আপনার লেখার কোয়ালিটির পাশাপাশি ব্যক্তিত্বের একটি ছুয়া পাওয়া যাবে। এ বিষয়টি একজন পাঠককে আপনার ব্লগের কনটেন্টের প্রতি অধিক আকৃষ্ট করতে সক্ষম হবে।

 অন্যান্য ব্লগে Gust ব্লগার হওয়াঃ

এটি গুগল ব্লগারের বড় একটা অপশন। এই অপশনের মাধ্যমে সহজে যে কোন ব্যক্তিকে ব্লগের Author হিসেবে যুক্ত করার মাধ্যমে লিখার সুযোগ প্রদান করা যায়। অন-লাইনে অনেক ব্লগ রয়েছে যারা নিয়মিতভাবে বিভিন্ন বিষয়ে Gust ব্লগার নিয়ে থাকে। আপনি যে বিষয়টি নিয়ে ব্লগিং করছেন সেই বিষয়ে ভালমানের ব্লগ গুলিতে একজন Gust ব্লগার হিসেবে যোগ দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আপনি যদি ভালমানের লেখক হন, তাহলে খুব সহজে ঐ ব্লগের মাধ্যমে আপনার ব্লগটিকে পরিচয় করিয়ে ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করতে পারেন। আপনি যখন Gust ব্লগার হিসেবে ঐ ব্লগটিতে নিয়মিত লিখবেন, তখন তারা আপনার ব্লগের পোষ্টগুলি লিংক করার সুযোগ দেবে। এ ক্ষেত্রে আপনি নিঃসন্দেহে একটি ভালমানের ব্লগ থেকে Dofollow Backlinks তৈরির মাধ্যমে ঐ ব্লগ থেকে আপনার ব্লগটিতে ট্রাফিক বৃদ্ধি করে নিতে পারেন।

 কমেন্টের সঠিক প্রতি উত্তর দেয়াঃ

এ বিষয়টি আপনার ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। পাঠক যখন আপনার পোষ্ট পড়বে তখন পোষ্টের কিছু বিষয় হয়ত ঠিকমত বুঝবে না। এ ক্ষেত্রে তারা চাইবে কমেন্টের মাধ্যমে আপনার নিকট থেকে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে জেনে নিতে। আপনি যদি কমেন্টের প্রতি-উত্তর প্রদানের মাধ্যমে বিষয়টি সম্পর্কে কমেন্টকারীকে সহজ ও বোধগম্য করে সন্তুষজনক জবাব দিতে পারেন, তাহলে ঐ পাঠক নিঃসন্দেহে আপনার ব্লগটিকে তার প্রিয় ব্লগের তালিকা রেখে Bookmark করে নেবে। এ ছাড়াও কিছু লোক যারা আপনার ব্লগের Contact Form এর মাধ্যমে কিংবা ই-মেইলের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে সমাধান চাইবে। আপনি বিষয়টি হেলায় ফেলে না দিয়ে, আপনার ব্লগের বিষয়ের সাথে মিল রয়েছে এমন বিষয়গুলি সম্পর্কে যোগাযোগকারীকে সমাধান সম্পর্কে জানাতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ঐ লোকটি আপনার এবং আপনার ব্লগের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে ব্লগটিকে প্রিয় তালিকার মধ্যে রেখে দিতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে পাঠকরা কিছুতেই তাদের সীমা অতিক্রম করা উচিত হবে। পাঠকদের উদ্দেশ্যে এ বিষয় আমি দুটি কথা বলে নিচ্ছি।

অনেক ভিজিটর রয়েছেন যারা বিভিন্ন বিষয়ে Facebook, WhatsApp এবং মোবাইলে ফোন করে ব্লগের Author এর কাছে বিভিন্ন বিষয়ে সাহায্য চান। আসলে এ বিষয়টি মোটেও সমিচীন নয়। কারণ ব্লগের Author এরও একটা Personality এবং ব্যস্ততা রয়েছে। এমন নয় সে সবসময় ব্লগ নিয়ে বসে থাকে। এ ক্ষেত্রে আপনার যদি কোন বিষয়ে সমাধান একান্ত প্রয়োজন হয়, তাহলে কমেন্ট, ই-মেইল এবং ফেইসবুক কমিউনিটিতে যোগাযোগ করে আপনার বিষয় সম্পর্কে সাহায্য চাইতে পারেন। এ ক্ষেত্রে ঐ ব্লগের Author এর পাশাপাশি হয়ত অন্য লোকের কাছ থেকেও আপনার কাঙ্খিত বিষয়ে সহজে অল্প সময়ে সমাধান পেয়ে যাবেন।

 ব্লগের Communities তৈরি করাঃ

এই বিষয়টি আপনার ব্লগকে সবার কাছে অধিক গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবে। আপনি যে বিষয় নিয়ে ব্লগিং করছেন, সেই বিষয়ের ভালমানের অন্যান্য ব্লগগুলির সাথে আপনার ব্লগটির Communities তৈরি করে নিতে পারেন। আপনি অন-লাইনে খোঁজলে খুব সহজে এ ধরনের অনেক ব্লগ পেয়ে যাবেন। তাছাড়া কিছু ভালমানের ব্লগ রয়েছে যেগুলি আপনি সাব্সক্রাইব করে নিয়ে তাদের সাথে নিয়মতভাবে একটি Communication তৈরি করে নিতে পারেন। আপনার ব্লগেও Subscribe অপশনটা ব্যবহার করে অন্যদের-কে আপনার ব্লগটি Subscribe করার সুযোগ করে দিতে পারেন।

 কিছু ফ্রি অপশন প্রদান করাঃ

আপনি একটা জিনিস মনে রাখবেন, পাঠকরা সবসময় ফ্রি জিনিস সহজে পেতে পছন্দ করে। তারা সব সময় চাইবে কারো ব্লগ থেকে ফ্রিতে ভালমানের কিছু ডাউনলোড করে নিতে। ধরুন আপনার ব্লগে Blogger Template, WordPress Theme এবং আপনার নিজের লিখা বিভিন্ন ই-বুক টাকার বিনিময়ে শেয়ার করেন। এ ক্ষেত্রে আপনি যদি সবগুলি টাকার বিনিময়ে বিক্রি করেন, তাহলে পাঠকরা আপনার ব্লগটি ভিজিট করা থেকে বিরত থাকবে। কারণ তাদের মনে একটা ধারনা হয়ে যাবে, এই ব্লগে টাকা ছাড়া কিছুই নেয়া যায় না। সেই জন্য আপনার উচিত হবে মাঝে মধ্যে কম গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলি বিনা মূল্যে সবাইকে ডাউনলোড করার সুযোগ তৈরি করে দেয়া। এ বিষয়টি আপনার ব্লগকে পাঠকের কাছে জনপ্রিয় এবং গরুত্বপূর্ণ করে তুলবে।

 Social Media Promote করাঃ

বর্তমান সময়ে ওয়েব ডেভেলপাররা ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি এবং সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের ক্ষেত্রেও সোসিয়াল মিডিয়াকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। কারন বিভিন্ন সোসিয়াল মিডিয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা এত বেশী যে, এটি কোন ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠানের পন্যের প্রচার-প্রসার এবং জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে অনেক ভূমিকা পালন করে। বিশেষকরে Facebook এবং Twitter এ আপনার ব্লগের জন্য একটি করে Fan Page তৈরি করে Fan বৃদ্ধি করে নিয়মিতভাবে ব্লগের বিভিন্ন পোষ্ট শেয়ার করার মাধ্যমে ব্লগের জনপ্রিয়তা এবং ট্রাফিক দুটিই বৃদ্ধি করতে পারবেন। তাছাড়াও Facebook এ একটি Group তৈরি করে সেখানে মেম্বার বৃদ্ধির মাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা করে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান প্রদানের মাধ্যমে ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করতে পারেন।

সর্বশেষঃ উপরের সবগুলি বিষয় আপনার ব্লগের ট্রাফিক বৃদ্ধি, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন এবং জনপ্রিয়তা বৃদ্ধিতে বিশেষভাবে অবদান রাখবে। আপনি যদি ব্লগের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি করে ব্লগের গ্রহনযোগ্যতা বাড়াতে পারেন, তাহলে আপনার ব্লগটি এক সময় সবার কাছে ব্রান্ড হয়ে যাবে। তখন ব্লগের ট্রাফিক এবং ব্লগ থেকে আয় করা কোনটি নিয়ে আপনাকে চিন্তা করতে হবে না। কারণ যখন আপনার ব্লগটি সবার কাছে পরিচিত হয়ে যাবে, তখন পাঠক ব্লগটিতে সরাসরি ব্লগের লিংক ব্যবহার করে নিয়মিতভাবে ভিজিট করতে থাকবে। এ জন্য সবাইকে ব্লগের SEO করার পাশাপাশি জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির কৌশলগুলি যথাযথভাবে অনুসরণ করা প্রয়োজন।
Continue Reading→

0 comments:

Discussion

Blogger templates. Proudly Powered by Blogger.